মোঃ গুলজার রহমান বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে এক নারীর সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাতনামা প্রতারকের বিরুদ্ধে। নিজেকে 'বগুড়া সদর থানার এডিসি' পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি কেবল অর্থই হাতিয়ে নেননি, বরং প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের নাম ব্যবহার করে এক ভয়াবহ ব্ল্যাকমেইল নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত থেকে এই প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগী নারীকে টার্গেট করে। নিজেকে 'বগুড়া সদর থানার এডিসি' পরিচয় দিয়ে ০১৩২০-৭৪০১৮২ এবং ০১৭১১-১২৬৭০৯ নম্বর থেকে ফোন করা হয়। প্রতারক দাবি করেন, 'সাবু' নামক এক ব্যক্তি ওই নারীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করতে থানায় অবস্থান করছেন।
তদন্তে দেখা যায়, ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে প্রতারক ব্যক্তিটি সদর থানার ওসি, স্টেডিয়াম ফাঁড়ির আইসি এবং এসআই জাহাঙ্গীরের নাম ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, অন্য সব পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর বিপক্ষে থাকলেও তিনি (কথিত এডিসি) তাকে বাঁচাতে পারেন। মামলা রেকর্ড না করার বিনিময়ে এবং তথাকথিত বাদী সাবুকে শায়েস্তা করার কথা বলে তিনি ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।
ভীতি প্রদর্শন ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখে ভুক্তভোগী নারী ০১৮১১-৫৩৭৭৫৬ নম্বরে বিকাশ মারফত ১২ হাজার টাকা পাঠান (ট্রানজেকশন আইডি: CLV0MUJMAW)। তবে টাকা পাওয়ার পর প্রতারকের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। তথাকথিত মামলার বাদীকে ফাঁসানোর টোপ দিয়ে তিনি ওই নারীর কাছে 'অশালীন ছবি' দাবি করেন। এই অনৈতিক প্রস্তাবে ভুক্তভোগী নারী সজাগ হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি যে সম্পূর্ণ প্রতারণা তা নিশ্চিত হন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতারক ব্যক্তিটি কেবল পুলিশ নয়, স্থানীয় সাংবাদিকতার পেশাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি 'আরিফ' নামক এক সংবাদকর্মীর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন যে, গণমাধ্যমও তার কথামতো কাজ করছে। মূলত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এক ধরণের 'সেফ জোন' তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে এই চক্রটি।
অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে:
বগুড়া সদর থানায় 'এডিসি' পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার সরাসরি দাপ্তরিক পদায়ন বা কর্মকাণ্ড এভাবে পরিচালিত হয় না।
পুলিশের কোনো দাপ্তরিক কাজে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অর্থ লেনদেনের আইনগত সুযোগ নেই।
এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রের কাজ যারা সরকারি কর্মকর্তাদের অফিশিয়াল সিরিজ নম্বর ক্লোন বা ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
ভুক্তভোগী নারীর কাছে ঘটনার সমস্ত কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। তিনি জানান, "আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পুলিশের নাম ব্যবহার করে যারা এমন নোংরামি করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট দ্রুত প্রযুক্তির সহায়তায় ওই বিকাশ নম্বরের অবস্থান ও পরিচয় শনাক্ত করলে এই চক্রের মূল হোতাকে ধরা সম্ভব হবে। অন্যথায় পুলিশের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে আরও ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকাশক : নাদিম হোসেন তালুকদার, প্রধান সম্পাদক: আলমগীর হোসেন তালুকদার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোহনা চৌধুরী পিয়া, উপদেষ্টা: মোস্তফা সরোয়ার, আইন উপদেষ্টা :অ্যাডভোকেট তোহা, নির্বাহীসম্পাদক: মোহাম্মদ হবে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, ফোন নাম্বার : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟒𝟑𝟏𝟏𝟔𝟑, প্রধান কার্যালয় : ৩ নং চিড়িয়াখানা রোড, নিউ সি ব্লক, মিরপুর-১ ঢাকা ১২১৬
E-mail : dainikbbckhobor.com@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত