বাদল আহাম্মদ খান নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন ও এর আশেপাশে জায়গা দখলের যেন প্রতিযোগিতা সহযোগিতা শুরু হয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে স্টেশন থেকে বের হয়ে যানবাহনে উঠতে যাত্রীদেরকে বেশ হিমশিম খেতে হয়।
জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। আগে থেকে থাকা দোকানের সামনে আরো দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে যেকোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে।
এদিকে এসব জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। ওই চিঠিতে তিনি অবৈধ দখলদারদের কারণে যাত্রীদের চলাচল তথা জনদুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। চিঠিতে তিনি যাত্রীর বাইরেও স্টেশনে বহিরাগতদের আড্ডার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে ঢোকার পথে এক নং প্লাট ফরম ঘেঁষে রাস্তার পাশ ধরে বেশ কিছু দোকান রয়েছে। ওই স্থানটিতে বিশাল একটি মার্কেট থাকলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার পর আর কাউকে ইজারা (লিজ) দেয়নি। তবে আওয়ামী সরকারের আমলে কিছু দোকান সেখানে বসানো হয়। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দোকান কমে যায়। সম্প্রতি আবার দোকান সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখানে অন্তত ছোট বড় মিলিয়ে ২০টির মতো দোকান রয়েছে। এছাড়া প্লাটফরম কেন্দ্রিক কিছু বৈধ দোকানও এগুলোর পাশে রয়েছে। একইস্থানে সিএনজি, অটো রিকশা ও মিনি ট্রাকও রাখা হয়। মো. রেজাউল নামে রেলওয়ের এক ব্যক্তি এখান থেকে প্রতিদিন মাসোহারা নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ মাসোহারা আবার অনেকের মাঝে বাটোরায়া হয়।
স্থানীয় দোকানীরা জানান, মাসখানেক ধরে আগের দোকানগুলোর সামনে নতুন করে দোকান বসাতে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়। কখনো আগের দোকানরদাররা আবার কখনো যানবাহনের শ্রমিকরা এতে বাধা দেন। এ নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এসব বিষয় নিয়ে গত ১৫ মার্চ বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব) এর কাছে চিঠি দিয়েছেন আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী উঠানামা করেন। স্টেশনের এক নং প্লাটফরমের দুই পাশে একাধিক দোকান রয়েছে। চা-পানের দোকানগুলোতে বহিরাগতরা আড্ডা দেন। এতে যাত্রীদের চলাচলে বিঘœ ঘটে। এছাড়া অবৈধ দোকানপাট, সিএনজি স্ট্যান্ড, ট্রাক স্ট্যান্ডের আড়ালে চোর, ছিনতাইকারি, ভাসমান পতিতা ও অন্যান্য অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড করে।
ওই চিঠিতে ওসি বিধি মোতাবেক থাকা দোকানের বাইরে অন্যগুলো উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। তিনি লিখেন, ‘এসব অবৈধ দোকান থেকে মাসিক/সাপ্তাহিক ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হয়ে থাকে। অবৈধ দোকানপাট দখল নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক দোকানদার বলেন, ‘আমরা জানি আমরা অবৈধ। সরকার যদি কাউকে লিজ দেয় তাহলে আমরা চলে যাব। কিন্তু এখন একটি চক্র আমাদের দোকানের সামনে এনে দোকান বসিয়ে দিতে চাচ্ছে। তারা দলীয় প্রভাব দেখাচ্ছে। আমাদের দোকানের সামনে যদি দোকান বসে একদিকে যেমন আমাদের ব্যবসা হবে না তেমনিভাবে চলার রাস্তাও কমে যাবে। তখন দেখা যাবে যে আমাদের কেউ এখানে বসতে পারবো না। আমরা চাই সরকার হয় আমাদেরকে নইলে অন্য যে কাউকে জায়গা লিজ দিয়ে দিক। আর এখন দলীয় প্রভাব দেখিয়ে যে অত্যাচার শুরু হয়েছে সেটি থেকেও আমরা মুক্তি চাই।’
আশেপাশে একাধিক ব্যবসায়ি বলেন, ‘এসব নিয়ে কথা বলা মুশকিল। এতদিন তো কয়েকটা দোকান ছিলো। তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এখন প্রতিনিয়তই দোকান বাড়ছে। দোকানের জন্য জায়গা দখল নিয়ে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে আমাদেরকেও ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়।’
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ দোকানগুলোর জন্য যাত্রীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে জোর করে একটি দোকান বসানো নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা শুনেছি। সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে চিঠি দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেয় দেখা যাক।’
প্রকাশক : নাদিম হোসেন তালুকদার, প্রধান সম্পাদক: আলমগীর হোসেন তালুকদার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোহনা চৌধুরী পিয়া, উপদেষ্টা: মোস্তফা সরোয়ার, আইন উপদেষ্টা :অ্যাডভোকেট তোহা, নির্বাহীসম্পাদক: মোহাম্মদ হবে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, ফোন নাম্বার : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟒𝟑𝟏𝟏𝟔𝟑, প্রধান কার্যালয় : ৩ নং চিড়িয়াখানা রোড, নিউ সি ব্লক, মিরপুর-১ ঢাকা ১২১৬
E-mail : dainikbbckhobor.com@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত