বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩২ নম্বর পিএফডি প্লট দখল, মূল্যবান গর্জন গাছ কর্তন এবং প্লটের অংশীদার জাফর আলমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেনঅভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলাতলী এলাকার বাসিন্দা জাফর আলম ৩২ নম্বর পিএফডি প্লটের বৈধ অংশীদার। অপরদিকে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান, নাছির উদ্দিন, আরফাত মিয়া, মোহাম্মদ ইউনুছ, ফরিদা, খুরশিদা ও সানজিদা পাশের ৩৩ নম্বর প্লটের অংশীদার বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ৩২ নম্বর প্লটে প্রবেশ করে প্রায় ২৬টি বড় গর্জন গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে খবর পেয়ে সিপিসি টহল দল, বন প্রহরী বিপুল চন্দ্র দাশ, আয়ুব আলী ও ইনসান আলীসহ হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা জহির উদ্দিন মিনার চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাটা গাছ উদ্ধার করে হোয়াইক্যং বিট অফিসে জব্দ করেনজাফর আলম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি মামলা দায়েরের অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে তার প্লট দখল করে ধারাবাহিকভাবে গাছ কেটে বিক্রি করছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগী।সর্বশেষ শুক্রবার (১৬ মে ২০২৬) সৌদি প্রবাসী মোস্তাকের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ৩২ নম্বর প্লটে প্রবেশ করে প্রায় ২৪টি কলাগাছ কেটে ফেলে এবং সেখানে থাকা পাহারাদারের একটি ঘর ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় জাফর আলম বাধা দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনিঅভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে হোয়াইক্যং বিট অফিসের স্টাফ, স্থানীয় বেসরকারি সার্ভেয়ার এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৩২ ও ৩৩ নম্বর প্লটের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সিপিসি সদস্যদের সহযোগিতায় সেখানে প্রায় ৩০০টি গর্জন, ডাকিজাম ও অন্যান্য বনজ চারা রোপণ করা হয়। তবে অভিযুক্তরা পরদিনই ওই চারা উপড়ে ফেলে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।এ ঘটনায় জাফর আলম হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উভয় পক্ষকে সার্ভেয়ার নিয়োগের জন্য টাকা জমা দিতে বলা হয়। তিনি সিপিসির সভাপতি আবু তাহেরের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা বিট অফিসে জমা দিলেও দীর্ঘ এক বছরেও সীমানা নির্ধারণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন।ভুক্তভোগী জানান, তার ৩২ নম্বর পিএফডি প্লটে বর্তমানে বহু মূল্যবান মাদার গর্জন গাছ রয়েছে। সেখানে একটি পাহারাদারের ঘর ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নেই।এ বিষয়ে জাফর আলম প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কেটে নেওয়া গাছের ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ৩২ ও ৩৩ নম্বর প্লটের সীমানা দ্রুত নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক : নাদিম হোসেন তালুকদার, প্রধান সম্পাদক: আলমগীর হোসেন তালুকদার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোহনা চৌধুরী পিয়া, উপদেষ্টা: মোস্তফা সরোয়ার, আইন উপদেষ্টা :অ্যাডভোকেট তোহা, নির্বাহীসম্পাদক: মোহাম্মদ হবে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, ফোন নাম্বার : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟒𝟑𝟏𝟏𝟔𝟑, প্রধান কার্যালয় : ৩ নং চিড়িয়াখানা রোড, নিউ সি ব্লক, মিরপুর-১ ঢাকা ১২১৬
E-mail : dainikbbckhobor.com@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত