
বাদল আহাম্মদ খান
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার একটি মারামারি মামলায় প্রায় ২ বছর আগে মারা যাওয়া মো. হাবিবুর রহমান (৫৬) কে আসামী করা হয়েছে। মামলার বিবরণ, মারামারির ঘটনাটি ঘটেছে ৯ জানুয়ারী বিকালে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ধরখার গ্রামে। ১০ জানুয়ারি ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের আয়ুব ভূইয়া বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামী আখাউড়া থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ৯/৯। এ মামলায় রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক কাতার প্রবাসীকেও আসামী করা হয়েছে। তিনি মামরা রেকর্ড হওয়ার ২৫ দিন আগে (গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর) কাতার চলে গেছেন। হাবিবুর রহমানের মৃত্যু সনদ ও কাতার প্রবাসীর দেশ ত্যাগের পাসপোর্ট এর কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এছাড়াও এ মামলায় কয়েকজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের আয়ুব ভূইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ ভূইয়ার সাথে একই ইউনিয়নের ধরখার গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার পুত্র জসিম মিয়ার (১নং আসামী) জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা চলমান আছে। বিরোধের জেরে গত ৯ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ ভূইয়া ও আলামিন ভূইয়া নামে দুজন আহত হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ১০ জানুয়ারী ১৩জনকে আসামী করে আখাউড়া থানায় মামলা করেন আয়ুব ভূইয়া। এরমধ্যে ধরখার গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানকে ১২নং আসামী করা হয়েছে। ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ হাবিবুর রহমান মৃত্যু বরণ করেছেন। একই মামলায় প্রবাসী রুবেল মিয়া কে ৫নং আসামী করা হয়।
এ ব্যপারে জসিম মিয়ার বড় ভাই ২নং আসামী মো. ইসমাইল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি স্বপরিবারে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম এলাকায় বসবাস করি। ঘটনার দিন ও সময়ে আমি বাসায় ছিলাম। আমি ধরখার যাইনি। আমার বাসার সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তদন্ত ছাড়াই পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছে। এলাকায় থাকে না এমন লোকজনকেও মামলায় আসামী আসামী করা হয়েছে।
এ ব্যপারে আখাউড়া থানার ওসি মো. জাবেদ উল ইসলাম সংবাদিককে বলেন, বাদী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তাদের দেওয়া নাম অনুযায়ী মমলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়ার সময় ওই নামগুলো বাদ দেওয়া হবে।