বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ভোগান্তির অন্ত নেই পানিবন্দী ভবদহ পাড়ের মানুষের আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে : অর্থমন্ত্রী সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নয় জন পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত চট্টগ্রামে নালা থেকে ১ হাজার ৩২০টি ব্যবহৃত গুলি উদ্ধার সারাদেশে আলোচিত ‘হানি ট্র্যাপ’: চট্টগ্রামে চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন সাজা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ২৭ জুলাই আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সে কোস্ট গার্ড, অভিযান অব্যাহত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

ভোগান্তির অন্ত নেই পানিবন্দী ভবদহ পাড়ের মানুষের

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

 

এম, মাহবুব নান্নু যশোর জেলা প্রতিনিধি

জুন ও জুলাই মাস জুড়ে বৃষ্টি ও নিম্নচাপের প্রভাবে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০ টিরও অধিক গ্রামবাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও পুকুর সব কিছুই এখন পানির নিচে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক অসহায় মানুষেরতত্ত্বাবধায়ক সরকার ভবদহের জলাবদ্ধ মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছিলোযা গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ছিলো এবং ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সকল কার্যক্রম শেষ করার কথা ছিল।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়ায় এবং পুনরায় বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ৫০ টিরও বেশি গ্রামের আপামর সাধারণ জনগণপ্রকল্পের আওতায় হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর মোট ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ করার কথা ছিলএরই মধ্যে হরি-তেলিগাতি ও টেকা নদীর কিছু অংশের খনন কাজ শেষ হলেও জলাবদ্ধ মানুষের ভাগ্যের তেমন কোন উন্নতি চোখে পরিলক্ষিত হয়নি।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ভবদহ সুইসগেটের কপাট গুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। যে কারণে চারটি পাম্প লাগিয়ে চলছে পানি নিষ্কাশনের কাজ। ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য নতুন করে আরো পাঁচটি পাম্প স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, বারান্দী, দিঘলিয়া, দামুখালী এছাড়াও মনিরামপুর উপজেলার আসানগর, কুশখালী, কামিনীডাঙ্গা, হাটগাছা, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, সুজাতপুর, কুলটিয়া, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙ্গা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী, দুহাকুলাসহ অন্তত ৫০টির ও বেশি গ্রামের বাড়িঘর গুলো পানিতে তলিয়ে রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৩ সালের পর থেকে ভবদহ এলাকায় টিআরএম চালু না থাকায় নদীতে অধিক পরিমাণে পলি জমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খাল সংস্কার না হওয়ায় এবং সেখানে নির্মিত ত্রুটিপূর্ণ কালভার্ট তৈরির কারণে বিলের পানি দ্রুত নিস্কাশন হচ্ছে নাডুমুরতলা-বেদভিটা, আন্দা-বলারাবাদ, মশিহাটি ও সুন্দলীসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ফলে এ রুটে চলাচলকারী যানবাহন গুলো মারাত্মক ঝুঁকি মধ্যে পড়েছে। এছাড়াও পানির চাপে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েকটি রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য হরিনাথ বিশ্বাস দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিলগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। মাছের ঘের ও ফসলি জমি সবকিছুই তলিয়ে গেছে, এছাড়াও নতুন করে বৃষ্টির কারণে দিনকে দিন পানির চাপ বেড়েই চলেছে। যে কারণে প্রতিদিন নুতন নুতন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।এই বিষয়ে খোঁজ নিতে যশোর পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews