শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
রহনপুরে ডিএনসির অভিযানে কথিত সাংবাদিক সামিরুলের ভাই ৭৫ বোতল মাদকসহ আটক পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি স্থাপন ঘিরে বিতর্ক: সম্প্রীতি বজায় রেখে সহনশীলতার আহ্বান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন: শায়েস্তাগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানের জরিমানা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র: চট্টগ্রাম চেম্বারে পল ফ্রস্ট চট্টগ্রাম সিটির ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা রামগঞ্জে নির্যাতনের পর বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু, লাশ মর্গে রেখে পালালেন স্বামী সরকারি জমি দখলের মরিয়া চেষ্টা: এসিল্যান্ডের বাধাতেও ক্ষান্ত হচ্ছে না ভূমিদস্যুরা! জন্মদিন ও সাংবাদিকতার ২৮ বছর: আলোর পথযাত্রী বোরহান উদ্দিন ডালিম ভোলা জেলার ডিবি পুলিশের অভিযানেঃ-২০ (বিশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ ০১ জন গ্রেফতার বিশ্বনাথে সিডস অফ সাদাকাহ এর ঘর পেলো তিনটি অসহায় পরিবার

পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি স্থাপন ঘিরে বিতর্ক: সম্প্রীতি বজায় রেখে সহনশীলতার আহ্বান

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন বৃহৎ রাম মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে একটি সংগঠন এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের একটি অংশ মনে করছেন, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রূপ না দিয়ে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করেন যে, পলাশবাড়ীতে বিশ্বের বৃহত্তম কথিত রাম মূর্তি স্থাপনের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তারা দ্রুত মূর্তিটি অপসারণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানান।

তবে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলের অভিমত, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ও বহু ধর্মের মানুষের দেশ, যেখানে সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো ধর্মীয় স্থাপনা বা প্রতীক নির্মাণকে সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা দেশ বিভক্তির ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বাস্তব তথ্য যাচাই জরুরি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গাইবান্ধা জেলায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানো বা সন্দেহের পরিবেশ তৈরি করা ভবিষ্যতে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও নাগরিক অধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করবে, তবে যাচাইয়ের আগেই জনমনে বিভ্রান্তি বা বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়।

স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সব পক্ষকে সংযত থেকে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews