
মোঃ গুলজার রহমান বগুড়া প্রতিনিধি
জনসেবামুখী নেতৃত্ব এবং স্মার্ট প্রশাসনের মডেল নিয়ে নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করলেন ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন মেধাবী কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। সম্প্রতি তিনি বগুড়ার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন। এর আগে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসক হিসেবে অনন্য সাফল্য অর্জনের পর তাঁর আগমনে বগুড়াবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে উন্নয়নের আশা।
প্রশাসনিক অঙ্গনে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার জন্য সুপরিচিত মো. তৌফিকুর রহমান খুলনা থেকে বদলি হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী জেলায় দায়িত্ব নিলেন।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত কৃতী এই কর্মকর্তা ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে প্রায় সব পরীক্ষায় স্কলারশিপপ্রাপ্ত এই মেধাবী কর্মকর্তা ‘পরিশ্রম করলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না’—এই বিশ্বাসকে তাঁর কর্মজীবনেও প্রতিফলিত করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে তিনি বাজেট বাস্তবায়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
মো. তৌফিকুর রহমানের পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলো তাঁর জনবান্ধব ও দূরদর্শী প্রশাসনের সাক্ষ্য বহন করে:
বাজার মনিটরিং ও জনবান্ধব কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক থাকাকালীন তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সিন্ডিকেটবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যাপক আলোচিত হন। তিনি প্রশাসনকে গণমাধ্যম-বান্ধব করে তোলেন এবং সাংবাদিকদের সমাজের “দর্পণ” আখ্যা দেন। শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলো তাঁকে “জনবান্ধব প্রশাসক” উপাধিতে ভূষিত করে।
ডিজিটাল খুলনা ও স্মার্ট জেলা উদ্যোগ: তিনি কুষ্টিয়াকে ‘স্মার্ট জেলা’ ঘোষণার উদ্যোগ নেন। খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি “স্মার্ট খুলনা গড়ে তুলি” শীর্ষক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি দপ্তরগুলোর অনলাইন সেবা ব্যবস্থা ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
সমাজকল্যাণ: দৌলতপুর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে নদীভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসনে তিনি একটি বিশেষ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন।
বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা: নতুন দিগন্তের উন্মোচন
নবাগত জেলা প্রশাসকের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বগুড়ার জনগণ দ্রুত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
দ্রুত সিটি করপোরেশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু।
সিরাজগঞ্জ রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শুরু করা।
বগুড়া বিমানবন্দর দ্রুত চালু করা।
মো. তৌফিকুর রহমান জনগণের কল্যাণকেই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য মনে করেন। বগুড়াবাসী আশা করছেন, তাঁর সততা, সাহস ও কর্মদক্ষতা এই জেলাকে উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও আশার শহরে পরিণত করবে।