
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারী ও গ্রাহকরা।সোমবার (৪ মে) সকাল ১১টার দিকে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে কয়েকশ’ আমানতকারী আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তালা দেনপ্রথমে তারা এক্সিম ব্যাংক শাখায় তালা দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন।উল্লেখ্য, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকএ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যেতুমি কে আমি কে, আমানতকারী আমানতকারীহেয়ার কাট হেয়ার কাট, মানি না মানি নাআমানত নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে নাএ বিষয়ে ইউনিয়ন ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক কায়সারুল আলম বলেন, “সব গ্রাহক একসঙ্গে টাকা তুলতে এলে তা দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমাদের স্বাভাবিক লেনদেন চলছিল, তবে আন্দোলনের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছেআন্দোলনকারীরা জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে শাখায় শাখায় তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করছেন। ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের চাপ ও উত্তেজনার কারণে সাময়িকভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা সরাসরি আমানতকারীদের আচরণে প্রতিফলিত হয়। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে গ্রাহক আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এর আগে রোববার খাতুনগঞ্জ এলাকায়ও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা।