
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
★ সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
★ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে একই সময়ে ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, কুয়াইশ, কাজিরহাট, আকমল আলী রোড, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, কাট্টলী ও ঈশান মহাজন সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ করার পর প্রধান সড়কের উপর স্তুপকৃত মাঠিগুলো সরানো হয়নি শেখ মুজিব রোড সহ অনেক জায়গায়। ফলে সে মাঠি পুনরায় ড্রেনে ঢুকে পড়ছে পানির স্রোতের সাথে, তাছাড়া উড়াল সেতুর র্যাম নির্মানে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা, কাদামাঠি ও জমাট পানিতে নাজুক অবস্থা সৃষ্ঠি হয়েছে।
চকবাজারের একজন পথচারী মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, যে যাই বলুক, চট্টগ্রামে মাঝারী বৃষ্ঠি হলেও নগরের অধিকাংশ এলাকার জনজিবন স্থবির হয়ে পড়ে। চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দার হাট, মুরাদপুর এলাকার অলি-গলিতে দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত থাকে।
এদিকে ইপিজেড এলাকার নিউমুরিং রোড, আকমল আলী রোড, বন্দর টিলায় গিয়ে দেখা যায় রাস্তা ডুবে শত শত দোকানে পানি ঢুকে গেছে। অতি ভারী বৃষ্ঠির পানির সাথে জোয়ারের পানি যুক্ত হয়ে এসব এলাকার নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা ফরিদ বলেন, প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে।
বাকলিয়ার গৃহিনী গোলশান বলেন, বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য অতি ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নিষ্কাশনে কিছুটা বিলম্ব হলেও বিভিন্ন খাল, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।