
হিজলা বরিশালপ্রতিনিধিঃ
বরিশালের হিজলা উপজেলায় সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মোল্লার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। আজ রবিবার দুপুর ১টার সময় উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের একতা খেয়াঘাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ইসমাইল হোসেন মোল্লাকে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
আহত ইসমাইল হোসেন মোল্লা জানান, দুপুরে তিনি বাসা থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে একতা খেয়াঘাটে একটি স্পিডবোটে ওঠেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবদল নেতা মোস্তফা সিকদারের ছেলে সোহাগ, জুবায়ের, আয়নাল ও লালচানসহ প্রায় ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁর ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। ওই সময় খেয়া ঘাটে পুলিশ উপস্থিত থাকায় কোনোমতে তাঁর জীবন রক্ষা পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসমাইল মোল্লার বড় ভাই ফিরোজ মোল্লা বলেন,
আমার ছোট ভাই রাজনীতি করলেও কারো সাথে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। একটি বিশেষ গ্রুপ আমার ভাইকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
হামলার সত্যতা স্বীকার করে যুবদল নেতা মোস্তফা সিকদার জানান, গত মাসে গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া বাজারে একটি শালিস বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ইসমাইল মোল্লা লালচান ফরাজীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এছাড়া কিছুদিন আগে শাওড়া বাজারে তাঁর ছেলে সোহাগকে একা পেয়ে ইসমাইল গালিগালাজ করেছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই আজ একতা খেয়াঘাটে ইসমাইল মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়। মোস্তফা সিকদার আরও অভিযোগ করেন, এই হামলার প্রতিবাদে দুপুরে ইসমাইল মোল্লার সমর্থকরা তাঁর মালিকানাধীন মাছঘাটে ভাঙচুর ও হামলা চালায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৌরবদী ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোলায়মান বলেন,
ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করি আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।