সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সাথে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০ বছরের ব্যবধানে মা-ছেলের বাঁশখালী সফর অভয়নগরে ১,৪১৭ পিস ইয়াবা সহ শীর্ষ মাদক ডিলার আকাশ ও সুমন গ্রেফতার  জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২।  যশোরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ১ যুবক ও ২ নারী সদস্য গ্রেফতার  জনসাধারণ আমি, আমিই জনসাধারণ’স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ে বললেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী যৌথ অভিযানে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ 

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী জেলা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং, নিয়োগ ও বিভিন্ন সেবা খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এস.এম রাশিদুল সালেকিন (সুমন), পিএ-র নেতৃত্বে একটি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৮-১০ জন ব্যক্তি এতে জড়িত।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৪ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্ত সুমনকে অন্যত্র বদলিও করা হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগমের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আলী ও মো. শহিদুল। তাকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কন্ট্রোল রুমে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাকে পরিচয়পত্র ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি—কখনও ২,৫০০, কখনও ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

করোনাকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর পুনরায় কাজে যোগ দিলে চাকরি স্থায়ী করার কথা বললে অভিযুক্তরা অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় রামেক পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী (আমলী আদালত রাজপাড়া) মামলা করেন (মামলা নং- ৪৩৭, তারিখ: ০১/১২/২০২৪)। তবে এখনো তিনি টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, ওয়ার্ড মাস্টার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ জুন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন (স্মারক নং: রামেক হা/প্রশা/২০২৪/২৬৬০)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব-এর ছত্র ছায়ায় থেকে পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমন বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন-সহ রামেকে দাপটের সাথে আজ আবদি রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিরকেট বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ সদ্য যোগদানকৃত রামেক পরিচালককে সহযোগীতা না করা, নিজেদের মতো করে হাসপাতাল পরিচালনা করায় হাসপাতালের ভুন্ডুল অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতী ৩৩জন শিশুর মৃত্যু পুরো দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তারপরও এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের সুনাম রক্ষায় কোন প্রকার কাজ করছেন এমন কোন উদাহরণ তৈরী করছেন না বলেও অভিযোগ। ফ্যাসিস্ট আমলের এই সিন্ডিকেট বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করতে এবং চিকিৎসা খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় ভুমিকায় রয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সার্বিক বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য ডিজি ও রামেকের সাবেক পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এর আগেও একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে চাকরির নামে প্রতারণা, ঘুষ গ্রহণ, মানববন্ধন এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় তদারকি করেন পরিচালক। বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও চাকরি প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যপারে রাজশাহী মেডিকেল (কলেজ) রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এর মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews