
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নতুন সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ১৪ মে(বৃহস্পতিবার) রাতে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের জন্য এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার, বাংলামোটর থেকে জারি করা সাংগঠনিক নির্দেশনায় কমিটির অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। এতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাফর আহমদ চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন ওপেল। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে নিজাম উদ্দিন এবং হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুককে। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জোবাইর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ ইকবাল চৌধুরী ও আশরাফুল হক টিপু। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাফসান জানি রিয়াজ।তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই দলটির অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। কমিটি ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তারা নবগঠিত কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে গণপদত্যাগ ও সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সদ্য ঘোষিত কমিটিতে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ রাফসানজানি অভিযোগ করেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম মহানগরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, “দপ্তর সম্পাদক হিসেবে এটিই হবে আমার প্রথম এবং শেষ সংবাদ সম্মেলন।”
অন্যদিকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলেছেন আরফাত আহমেদ রনি। তিনি বলেন, দলের শুরু থেকে সক্রিয় থাকলেও তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। তার দাবি, বর্তমান কমিটির প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্যই নতুন এবং অনেককে কক্সবাজার থেকে এনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যোগ্যদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে পদ বণ্টনের অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি থেকে প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি উঠেছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সদস্য পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন নতুন সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থা ভেঙে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
চট্টগ্রাম মহানগরে দলের নতুন এই কমিটি গঠন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন বলেন, ৪১ ওয়ার্ডের সংগঠকদের নিয়ে প্রায় ১০০০ সংগঠকদের বাছাইকৃত তথ্য নিয়ে মহানগর কমিটি গঠিত হয়েছে। এখানে প্রাধান্য পেয়েছে প্রাক্তন রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তরুণ জুলাইযোদ্ধা, প্রবাসী এবং স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তি। আগামীর চট্টগ্রামের রাজনীতির নতুন পাটাতন তৈরি করবে এই মহানগর কমিটি।