
এম,এম মাহবুবর রহমান নান্নু
যশোর জেলা প্রতিনিধি
তাং-০৭/০৮/২০২৬ ইং
যশোরে সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যশোরের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের একটি দল।
দলটি জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার নাজির শংকরপুর রেলগেট এলাকা থেকে প্রথমে প্রতারক মোঃ মনিরুল ইসলাম (২৫) নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের সময় লিচুবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে খালেক সরকার (৩৩) নামে চক্রের অপর সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
ভুক্তভোগী এই মামলার বাদী মানিক কুমার আগরওয়াল (৪৩), চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার বাসিন্দা। তার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
গত ১৯ জুলাই প্রতারকরা নিজেদেরকে যশোরের সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠান ‘কাজী ফার্মস লিমিটেড’ এর পরিচালক পরিচয় দিয়ে ব্যাবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার প্রস্তাব করে। এরপর উভয়ের সম্মতিতে প্রতি কেজি ভূষি ৩২ টাকা দর হিসাবে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে প্রতারকদের কথামতো গত ২২ জুলাই ২টি ট্রাকে করে ২৮ হাজার ১০ কেজি এবং ২৫ জুলাই ৩টি ট্রাকে করে ৪০ হাজার ৪১০ কেজি গমের ভূষি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয় উক্ত ব্যাবসায়ী।
এছাড়াও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ব্যাবসায়ীর থেকে গাড়ি ভাড়া, সিকিউরিটি মানি, ভ্যাট ইত্যাদির অযুহাতে ধাপে ধাপে আরো বেশ কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
গত ৩১ জুলাই অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা ধার চাওয়ার পর থেকেই বাদীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে।
পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট ব্যাবসায়ী স্বশরীরে কাজী ফার্মের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারে, তাদের প্রতিষ্ঠানটি থেকে এমন কোনো ভূষি মালের অর্ডার দেওয়া হয়নি। তখনই প্রতারণার পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে ব্যাবসায়ীর সামনে।
পুলিশের তদন্ত থেকে জানা গেছে, প্রতারকরা কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের রাস্তা থেকে পণ্য গ্রহণ করে এবং ভুয়া পরিচয়, নকল ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তারা মোট ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার মালামাল আত্মসাৎ করে।
অভিযান কালে খালেক সরকার নামে একজন প্রতারকের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, একটি ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল, ৫১টি বিভিন্ন কোম্পানির সিম, ভুয়া এনআইডি, ভুয়া বিল-ভাউচার, ব্যাংকের চেকবই, নগদ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৭ বস্তা (৩,৮৫০ কেজি) গমের ভূষি এবং ১৮৫টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ৬ আগস্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই চক্রটির সাথে অন্য আরও সদস্য জড়িত থাকতে পারে।