সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সাতসকালে কলকাতার থানা পরিক্রমায় বের হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  চিটাগাং চেম্বারে গঠিত হচ্ছে ৫৭টি সাব কমিটি গাইবান্ধার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত  বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ : প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে বিপুল পরিমাণ গাঁজা সহ প্রাইভেট কার জব্দ আটক ৩ চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সাথে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০ বছরের ব্যবধানে মা-ছেলের বাঁশখালী সফর অভয়নগরে ১,৪১৭ পিস ইয়াবা সহ শীর্ষ মাদক ডিলার আকাশ ও সুমন গ্রেফতার 

ভাই বোন হোমিও চিকিৎসক ৬০ বছর ধরে চিকিৎসা দিচ্ছে নিমাই হোমিও চিকিৎসালয় 

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৪৮৫ বার পড়া হয়েছে

বাদল আহাম্মদ খান নিজস্ব প্রতিবেদক, আখাউড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রায় ৬০ বছর ধরে হোমিও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে নিমাই হোমিও চিকিৎসালয়। গত শতাব্দীর ষাটের দশকের মাঝামাঝি আখাউড়া শহরের লাল বাজার রোডে দু’চালা একটি ছোট্ট টিনের ঘরে হোমিও চিকিৎসা সেবা শুরু করেন ডাঃ নিমাই চন্দ্র রায়। একটি টেবিল আর একটি ছোট্ট আলমিরায় ওষুধ নিয়ে আখাউড়ায় প্রথম হোমিও চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে বেশি রোগী হতো না। ধীরে ধীরে রোগীর আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে ডাঃ নিমাই চন্দ্র রায় মানুষের কাছে নিমাই ডাক্তার হয়ে উঠেন। এক সময় টিনের ঘর পাকা বিল্ডিংয়ে পরিবর্তন হয়। হালে এলোপ্যাথিক চিকিৎসার উন্নতি এবং জনসাধারণের দুরগোড়ায় এসেছে। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ক্লিনিক-ডাক্তারের চেম্বার। রয়েছে সরকরি হাসপাতালও। এরই মাঝে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজও হোমিও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিমাই হোমিও চিকিৎসালয়। নিমাই চন্দ্র রায়ের ৬ ছেলে মেয়ে সবাই হোমিও চিকিৎসক। বাবার পাশে বসেই চিকিৎসা পেশা শুরু করেন ডাঃ নিরঞ্জন চন্দ্র রায় এবং ডাঃ রিপন চন্দ্র রায়। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীকাল চিকিৎসা পেশায় জড়িত থাকাবস্থায় ডাঃ নিমাই চন্দ্র রায় পরলোকগমন করেন। বর্তমানে তার দুই ছেলে ডাঃ নিরঞ্জন চন্দ্র রায় ও ডাঃ রিপন চন্দ্র রায় নিমাই হোমিও চিকিৎসালয়ে রোগী দেখেন।

উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রাম থেকে আসা এক নারী রোগী বলেন, দ্ইু বছর ধরে এ চেম্বার থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। উপকার পেয়েছি।

উপজেলার বনগজ গ্রামের আনোয়ার মিয়া বলেন, ২/৩ বছর ধরে নিমাই ডাক্তারের ওষুধ নিচ্ছি। উপকার পাচ্ছি।

জানতে চাইলে ডাঃ নিরঞ্জন চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৬৭ সালে এইচএমবি ডিগ্রী সম্পন্ন করে বাবা হোমিও চিকিৎসা শুরু করেন। বাবার মুখে শুনেছি। শুরুর দিকে রোগী হতো না। এজন্য মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়তেন। সেময় স্থানীয় ডাক্তার মহন লাল বাবাকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিতেন। আস্তে আস্তে রোগী বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বাবা মারা যান। এখন আমি ও আমার ছোট ভাই ডাঃ রিপন চন্দ্র রায় রোগী দেখি। আমরা ৪ বোন ২ ভাই। সবাই হোমিও প্যাথিক ডিগ্রী ডিএইচএমএস সম্পন্ন করেছি। সবাই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশায় জড়িত রয়েছে।

ডাঃ নিরঞ্জন চন্দ্র রায় আরও বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সঠিক আরোগ্য হয়। এজন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশায় এসেছি। রোগীর সমস্যা বুঝতে পেরে সঠিক ওষুধ দিলে আরোগ্য হয়। ভালো রোগী পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। নারী ও শিশু রোগী বেশি আসে বলে জানান তিনি। জ¦র, সর্দি, কাশি এ জাতীয় রোগীই বেশি আসে। এছাড়াও মহিলারা নানা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।

আখাউড়া চন্দনসার এলাকার বাসিন্দা লেখক আলী মাহমেদ বলেন, আমাদের ছোট বেলায় আখাউড়ায় হাতেগুনা কয়েকজন এলোপ্যাথিক ডাক্তার ছিল। তখন হোমিও চিকিৎসা দিতেন ডাঃ নিমাই চন্দ্র রায়। আমিও নিমাই ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছি। ওই সময় আমাদের পরিবারের যে কোন অসুখ বিসুখে উনার কাছে যেতাম।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাঃ হিমেল খান বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি ধারা হোমিও চিকিৎসা। সরকারী অনুমোদনপ্রাপ্ত হোমিও কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করা চিকিৎসক যথাযথ নিয়ম মোতাবেক চিকিৎসা দিলে হোমিও চিকিৎসায় আরোগ্য হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews