
শরীফ ভূঁইয়া, লক্ষীপুর, রামগঞ্জ থেকে,
১০ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টায় রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে পৌর আমির হাসান বান্নার সঞ্চালনায় রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক
এম পি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন: বিগত আওয়ামী সরকার জনগণের অধিকার হরণ করেছে। মানুষের ভাতের অধিকার ভোটের অধিকারজীবন ও নিরাপত্তার অধিকারসহ সকল প্রকার মৌলিক অধিকার কে হরণ করেছে। এটি আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত বংশীয় গুণাবলী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অধ্যাপক মুজিব বলেন : শেখ মুজিবুর রহমান ৭২এ ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছেন। এক দলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেছেন। পত্র পত্রিকার কণ্ঠকে রোধ করেছেন।
শেখ হাসিনা ও একই কায়দায় মানুষের উপর জুলুম চালিয়েছেন। অবশেষে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মোধ্য দিয়ে আল্লাহ এই জালিম থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। স্বৈরাচার হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরো বলেন: বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এদেশে আল্লাহর আইন কায়েম করতে চান। যারা আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি করা আইন দিয়ে দেশ চালাতে চান তারা জালিম। আল্লাহর আইন না থাকার কারণেই স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়েও এদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি আরো বলেন, রাসুল সাঃ বলেছেন: ঐ সরকার উত্তম যে সরকার তার জনগণকে ভালোবাসে এবং জনগণও সে সরকারকে ভালোবাসে। কিন্তু এদেশের কোন সরকারি জনগণকে তাদের বন্ধু বানাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী একটি গণমুখী দল। আল্লাহর রহমতে জনগনই জামায়াত ইসলামের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের অধিকার রক্ষায় আগামী দিনে জনগণকে সাথে নিয়ে জামায়াত ইসলামী কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাষ্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন: স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। এখনো পত্র পত্রিকা গুলিতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় জবরদখলের সংবাদ দেখতে পাই। এদেশে যদি এখনো ঘুম খুন হত্যা দর্শন জবরদখল বন্ধ না হয় তাহলে এই স্বাধীনতা আবারও লুন্ঠিত হবে। এই স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য জামাত ইসলামের সকল কর্মীদের সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিহত হওয়া রামগঞ্জের কৃতি সন্তান শহিদ রাকিব হাসানের পরিবারকে নগদ দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান শহিদ রাকিব হাসানের বাবার হাতে নগদ এ অর্থ তুলে দেন। এ সময় রাকিবের বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং এ হত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্নান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ আর হাফিজুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি ফারুক হোসেন নূর নবী, সহকারী সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট মহসিন কোভিদ মুরাদ, জেলা শিবিরের সভাপতি মনির হোসাইন, জেলা শ্রমিক কল্যাণফেডারেশনের সভাপতি মমিনুল পাটোয়ারী, রামগঞ্জ উপজেলা জামাতের সাবেক আমির মাস্টার আবুল হোসেন ও বেলায়েত হোসেন, সাবেক পৌর আমির আমিনুল ইসলাম মুকুল, উপজেলা সেক্রেটারি ইমরান হোসাইন, পৌর সেক্রেটারি ইসমাইল ইলিয়াস ও উপজেলা শিবির সভাপতি জুয়েল রানা প্রমুখ।